
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা দীপ্ত দেবনাথ বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষের বিভক্তির পর ১৯৪৮ সালের ৬মার্চ কলকাতা সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। স্বাধীনতার পর দলটি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সংক্ষেপে সিপিবি নামে পরিচিত হয়।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা পেলেও এর অনেক আগে থেকেই এ দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯২০ সালে এই ভূখণ্ডে এ আন্দোলনের সূচনা ঘটে। ১৯২৫ সালে ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ সালে সিপিআইর দ্বিতীয় কংগ্রেসে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটি গঠিত হয়, যা পরে সিপিবি নামে পরিচিতি পায়।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই কমিউনিস্ট কর্মীদের ওপর হত্যা-নির্যাতন ও জেল-জুলুম-হুলিয়ার খড়্গ নেমে আসে। হাজার হাজার কর্মীকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। ১৯৫০ সালের ২৪এপ্রিল রাজশাহীর খাপড়া জেলে কমিউনিস্ট রাজবন্দিদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে সাতজন শহীদ হন। এটাই এ ভূখণ্ডে প্রথম জেল হত্যাকাণ্ড। পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্টরা তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। তেভাগা, নানকার, টংকসহ নানা কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্র ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছেন তারা। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামেই সিপিবি অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। দীর্ঘ চলার পথে আন্দোলন-সংগ্রামে সিপিবির অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। ৫২’র মহান ভাষা আন্দোলনের নেপথ্যে ছিলো কমিউনিস্টরা, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি ছিলো নেপথ্য কারিগর। এদেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি সম্মুখভাগে ছিলো।
কমিউনিস্ট পার্টি খেটে খাওয়া মানুষের পার্টি; গরীব মানুষের পার্টি, শোষণ-বৈষম্যহীন-অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সিপিবি লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। লাখো শহিদদের রক্তে রাঙ্গা লাল ঝান্ডা বাংলাদেশে উড়বেই।