
খুবি প্রতিনিধি, ফিরোজ হাসান
বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ও জাহাঙ্গীরনগরের মতোও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষার ফল টিএসসি ( ছাত্র – শিক্ষক কেন্দ্র)। যা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের চাওয়া । খুবির টিএসসি নির্মান কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের দিকে যা এখনো চলমান। অর্থাৎ চার বছর নির্মান কাজ অতিক্রম করলেও এখনো পরিপূর্ণ ভাবে শেষ হয় নি এই ছাত্র – শিক্ষক কেন্দ্র ( টিএসসি)। কিন্তু দৃশ্যমান হয়েছে খুবির এই অত্যাধুনিক টিএসসি নির্মান কাঠামো ।
দশ হাজার বর্গ মিটার আয়তনে ১২০০ আসন বিশিষ্ট নির্মিত হতে যাচ্ছে খুবিয়ানদের এই মিলনায়তন। এটা শুধু ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র নয় এখানে দেখা মেলবে গান, আড্ডা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যা খুবিয়ানদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গণ্য হবে।
টিএসসি শুধু রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন নয়। খুবির ছাত্র রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত, সহশিক্ষা ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ, মানসিক প্রশান্তি আড্ডা ও মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয় বহুল আলোচিত গোলপাতার তৈরি মাইটোকন্ড্রিয়া আকারের ক্যাফেটেরিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে টিএসসিও হবে এর বিকল্প কেন্দ্রস্থল।
বাংলা ডিসিপ্লিনের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী এইচএম আরাফাত বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল প্রতীক্ষিত টিএসসি ভবনের কাজ দৃশ্যমান। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বহুদিনের চাহিদার ফসল। টিএসসি ভবনের কাজ শেষ হলে এটি সার্বক্ষনিক শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মিলনমেলায় পরিপূর্ণ থাকবে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে একটু প্রশান্তির পরশ পেতে টিএসসি ভবনই হয়ে উঠবে আশা ভরসার প্রাণকেন্দ্র। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে, অতিদ্রুত ভবনের কাজ সমাপ্ত করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি প্রাণান্তকর টিএসসি উপহার দিবেন।”
পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী জয় কুমার ঘোষ বলেন,” আমি প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র। ভার্সিটি লাইফের ৮টি টার্মের মধ্যে ইতোমধ্যে ১টি টার্ম শেষ করে ফেলেছি। ভার্সিটি লাইফের শুরু থেকেই দেখে আসছি টিএসসির নির্মাণকাজ চলমান। কিন্তু যেভাবে কচ্ছপের গতিতে কাজ এগোচ্ছে, তাতে ভার্সিটি লাইফে টিএসসিতে বন্ধুদের সঙ্গে বসে এক কাপ চা খাওয়ার সুযোগ হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমার মতে, প্রশাসনের উচিত টিএসসির নির্মাণকাজের গতি আরও বাড়ানো। নাহলে এর সমাপ্তি আরও বিলম্বিত হবে।”