
খুবি প্রতিনিধি
দক্ষিণবঙ্গে গোলপাতা নির্মিত নান্দনিক ডিজাইনের সর্ববৃহৎ ক্যাফেটেরিয়া তৈরি করা হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৬ একরের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে গোলপাতার তৈরি এই ক্যাফেটেরিয়া। একসময় বৃহত্তর খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের আর্থিক সংকটের কারণে ঘর তৈরিতে গোলাপাতা ব্যবহার হতো । তবে এখন সেই সংকট পরিনত হয়েছে শখে। গোলপাতা জায়গা করে নিয়েছে নামীদামি কফিশপে কিংবা নয়নাভিরাম রিসোর্ট তৈরিতে। এবার সেই গোলপাতা দিয়ে তৈরি হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া। বলা হচ্ছে ইট পাথরের শহরে গোলপাতার ছাউনিতে গ্রাম বাংলার ছোঁয়া পেয়েছে এই ক্যাফেটেরিয়া। ভিন্নধর্মী এই ক্যাফেটেরিয়া সবুজে ঘেরা চারপাশ তার ভেতরে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে গোলপাতার ছাউনি, সামনে ও পিছনের অংশ অনেকটা ত্রিভুজ আকৃতির। ক্যাফের পিছনে আছে হোগলা বন ও সামনে আছে বাঁশ ঝাড়। আর অন্য দিকে ছোট পুকুরে ফুটে আছে পদ্ম ও শাপলা ফুল। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার সবাই পাওয়া যায় এই ক্যাফেতে। খাবারের দামও শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই তো ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলে গান,আড্ডা, আর গল্পে মেতে উঠা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল আহম্মেদ বলেন,”ক্যাফেটেরিয়া হলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা প্রিয় জায়গা। আড্ডা বলেন,আলোচনা বলেন,ক্লাবের এক্টিভিটিস বলেন সবকিছু ক্যাফ কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। এছাড়াও তারা টুরিস্ট প্লেস হিসেবেও এই ক্যাফেকে মনে করেন। আড্ডার পাশাপাশি খাবারের এমন সুন্দর পরিবেশে তৈরি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়”।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী বসু বলেন,ক্যাফেটেরিয়াতে খাওয়ার পরিবেশটা একটু ভিন্ন ধরনের।পশ্চিমের ছোট্ট পুকুরে ফুটে থাকে অসংখ্য লাল পদ্ম। উত্তরে বাশবাগান ও হোগলাবন। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে খাবার খাওয়ার মুহূর্তটা সত্যিই অসাধারণ। এছাড়া এখানে খাবারের মান যথেষ্ট ভালো এবং দামে তুলনামূলক কম”।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য তুলে ধরে এই ক্যাফেটেরিয়ার ডিজিইন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থপত্য ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. শেখ সিরাজুল হাকিম ও সহকারী অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম। গোলপাতার ছাউনি ব্যবহারের ধারণাটি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মাহমুদ হোসেন।
সুন্দরবনের অন্যতম এই বনজ সম্পদ গোলপাতার দিয়ে তৈরি এই স্থাপনাটি দেশের মধ্যে গোলপাতা দিয়ে তৈরি সবচেয়ে বড় কাঠামো।
এই ক্যাফেতে এক সাথে ২০০ এর বেশি মানুষ বসার ব্যবস্থা আছে। সামনের অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে শিক্ষার্থী আর পেছনের অংশ শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য। এছাড়া প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে থেকে রাত ১০ পর্যন্ত খোলা থাকে এই ক্যাফে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বাইরে থেকে প্রতিদিন ঘুরতে আসেন এই দৃষ্টিনন্দন ক্যাফেতে।