
মোঃ সেলিম রেজা
উপজেলাপ্রতিনিধি
গাংনী মেহেরপুর।
মেহেরপুরের গাংনীতে আদালতের রায় পাওয়ার পরে ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহবধূর উপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ৩ টার সময় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গাংনী উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে হোসেন আলীর ছেলে মনিরুল ইসলামের বসত বাড়ীতে প্রবেশ করে গৃহবধু পান্না খাতুনকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা আহত পান্না খাতুনকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। বর্তমান তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
আহত পান্নার স্বামী মনিরুল ইসলাম জানান, আমার জমি জমা নিয়ে আদালতে দীর্ঘদিন যাবৎ মামলা চলার পর আমার পক্ষে রায় হয়। রায় পাওয়ার পরে প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্ত্রী পান্না খাতুনকে হত্যার চেষ্টা করে।
প্রতিবেশী আশিক ও শিল্পী খাতুন জানান, প্রতিপক্ষ কল্যাণপুর গ্রামের মৃত সামছদ্দিনের ছেলে বদর উদ্দিনের নেতৃত্বে বদর উদ্দিনের ছেলে হাবেল, মাতু, প্রবাসী ইদ্রিস আলীর স্ত্রী তানজিলা খাতুন, হাবেলের স্ত্রী সাথী খাতুন, আজিজুল ইসলামের ছেলে রহমান, রহমানের স্ত্রী অঞ্জনা খাতুন, সলেমানের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান ও চাঁন্দুসহ ১০/১২ জন বাঁশের লাঠি ও হাসুয়া হাতে নিয়ে আমার বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করে আমার স্ত্রী পান্না খাতুনকে পিটিয়ে আহত করে এবং হত্যার চেষ্টা চালায়। আমি প্রাণের ভয়ে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।
মনিরুল ইসলামের ভাই জামিরুল ইসলাম জানান, জোরপুর্বক আমার ভাইয়ের বাড়ীর প্রবেশ পথ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিপক্ষরা এর আগে আমাদের পরিবারের সকল সদস্যকে মারধর করেছে। হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এবিষয়ে জানতে প্রতিপক্ষ বদর উদ্দিনের ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এবিষয়ে কল্যাণপুর গ্রামের মেম্বার কাউছার আলী জানান, জমি জমা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলা আছে। ডালকাটাকে কেন্দ্র করে পান্না খাতুনকে ডাল দিয়ে মারার ঘটনা আমি শুনেছি।
এবিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, গৃহবধুর উপর হামলার ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।