
জবি প্রতিনিধি :
পৃথিবীর একমাত্র বাংলাদেশই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে
,আর তারই প্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো
২১শে ফেব্রেুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবছর বাংলাদেশ, ও ভারতের
পশ্চিম -বঙ্গ সহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে এ দিবস
পালন করে আসছে।১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী পরবর্তীতে ৫৪ এর যুক্টফ্রন্ট নির্বাচনে জয় লাভ করলে
পাকিস্তানের সংবিধান ১৯৫৬ সালে উর্দূ এর পাশাপাশি
বাংলাকে অন্তভুক্ত করা হয়। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন
আজকের বাংলাদেশ সৃষ্টি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ
গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট
নির্বাচন,১৯৬৬ এর ৬দফা,১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন
,১৯৭০ সালের নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের
ফলে আজকের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ১৯৫২
সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহিদদের প্রাণভরে স্মরণ
করি।
শাহীন আলাম, জবি প্রতিনিধি
২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আজ তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছে।ইতিহাসের প্রথম জাতি হিসাবে বাঙালি জাতি প্রথম যারা জীবন দিয়েছে ভাষার জন্য। নিজেদের বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে নিজের মায়ের ভাষা বাংলাকে।
সেদিনের রক্তে কেনা বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা কতটা করছে আমাদের তরুন প্রজন্ম। এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিলে দেখা যাবে হতাশাজনক উত্তর। এখনো অনেক স্থানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন হয় ভিনদেশী গান বাজিয়ে আর নৃত্য করে। অথচ এই অসুস্থ প্রজন্ম জানেই না এটা শোক পালনের মাস। এই মাসে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হয় ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছে তাদের।
নতুন প্রজন্মকে ভাষার প্রতি সচেতন করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট বেলা থেকেই অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে হবে পরিবার থেকে।
“২১ ফেব্রুয়ারি শুধু দিবস নয়, ২১ আমাদের চেতনার উন্মেষ ঘটায়, আমাদের চেতনাবোধ, আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করে। যার পথ বেয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি।”
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস – এ সকল ভাষা শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ছায়েম সরকার
নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জবি
আজ থেকে বাহাত্তর বছর আগে ঠিক এমন দুপুর সোয়া তিনটা ভাষা শহীদের রফিকউদ্দিনের মাথায় বিদ্ধ হয় গুলি। ছিটকে পড়ে মগজ। ছিটকে পড়া মগজের ভেতরে ছিলো ভাষার জন্য গভীর ভালোবাসা। আর নিউরনে নিউরনে ছিলো প্রাণ বিসর্জনের মতো স্পর্ধার উষ্ণতা। একবিংশ শতাব্দীর ৮’ই ফাল্গুন আর ৫০ দশকের ৮’ই ফাল্গুনের মাঝে বিশালরকম একটা পার্থক্য রয়েছে। প্রদেশটার নাম ছিলো পূর্ব পাকিস্তান, মানুষগুলার মাঝে ছিলো মাতৃভাষা প্রতি গভীর ভালোবাসা, বসন্তের বাতাসে বিদ্রোহ। কবি নজরুল ইসলামের মতো বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলো বাংলার মানুষেরা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতিসত্তা ও ভাষাভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষাসহ সকল সংগ্রাম ও আন্দোলনের উৎস ও প্রেরণা ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ভাষাশহীদ শফিক, রফিক, জব্বারের তাজা প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা চেতনা আজ অনেকটাই অপস্রিয়মাণ। ক্রমশ বাংলা ভাষা তার নিজস্বতা হারাচ্ছে। বিশ্বায়নের ফলে বিভিন্ন ভাষা আর সংস্কৃতির সংমিশ্রনে বাংলা ভাষা মৌলিকতা হারাতে বসেছে। এমনকি বর্তমান প্রজন্মের কাছে শহীদ দিবস মানে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া আর হিন্দি গানে পুরো পাড়া মাতিয়ে রাখা। বা, পাঠ্যপুস্তকের ভাষার মাস নিয়ে দু’লাইন রচনা চর্চাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। আর এদিকে, প্রগতিবাদীদের দোদুল্যমান সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক বিতর্কের কারনে হারিয়ে যাচ্ছে সঠিক ইতিহাস। আজ শুধু ভাষার সংমিশ্রন বাংলা ভাষার চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না বরং তারচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে ভাষার অশুদ্ধ এবং অসুস্থ চর্চা। ভাষার অসুস্থ চর্চা কেমন আবার? এমন প্রশ্ন তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে আসবেই কারণ বর্তমান প্রজন্ম ভাষাটাকে সেভাবেই শিখছে। বাংলা চলচ্চিত্র, নাটকে বিভিন্নভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ উক্তি যা আধুনিকতাবাদের একটা অংশ হিসেবেই ধরে নিচ্ছে এই তরুণ প্রজন্ম।
অপসংস্কৃতির চর্চা এবং মূলবোধের অভাবে ভাষা তার আসল মহিমান্বিত ইতিহাস হারাতে বসছে। বায়ান্নোর মাতৃভাষার চেতনা শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ভাষার ইতিহাস, শুদ্ধ চর্চা, বাংলা সাহিত্যের চর্চা সর্বোপরি সুস্থ চর্চার মধ্যমে একুশের চেতনা প্রতিফলিত হোক।
উম্মে জামিলা
নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জবি।
“মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে
তোমার কোলে শুয়ে গল্প শুনতে দেবে না। বলো, মা, তাই কি হয়?”
সত্যিই তা কোনোভাবে মেনে নেওয়ার নয়। তাইতো ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে সহস্র বাঙ্গালি আন্দোলন শুরু করে এবং নিজেদের জীবন বিলিয়ে দেয়। বিশ্বে একমাত্র বাঙ্গালি জাতিই মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তাইতো সেই সকল শহীদের স্মরণে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শহীদের রক্তে ভাস্বর একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু আমাদের অনুপ্রেরণারই উৎস নয়, এর একটি দিকনির্দেশনাও রয়েছে। এর মূল কথা—জীবনের সর্বক্ষেত্রে মাতৃভাষার চর্চা এবং রাষ্ট্রের সকল কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা। বর্তমান প্রজন্মের উচিত নিজ ভাষা ও অন্যান্য ভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। তাহলেই শহিদদের আত্মত্যাগ সফল হবে। অবশেষে যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলতে পারছি সেই শহীদদের জানায় বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁদের আত্মত্যাগ কিছুতেই ভুলে যাওয়ার নয়। তাইতো আমরা সহস্র কণ্ঠে গেয়ে উঠি –
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।”
আনোয়ার হোসেন
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,জবি।