
জাবি প্রতিনিধি
ছাত্রলীগের পুনর্বাসন ও মদকের সাথে জড়িত কাউকে হলে উঠতে না দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম বরকত হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গতকাল সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে হলের কমনরুমের আয়ামনে জমায়েত হয়ে মিছিল শুরু করে তারা। পরে হলের দ্বিতীয় তলা হয়ে উত্তর পাশের গেইট দিয়ে বের হয়ে মূল ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো, কোনভাবে ছাত্রলীগের পুনর্বাসন করার চেষ্টা যদি করা হয়, তাহলে সেগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নিবে না। সকলে একত্রিত হয়ে প্রতিহত করবে। দ্বিতীয়ত মাদকের সাথে পূর্বে জড়িত ছিল, মাদক ব্যাবসা করত এমনই ন কাউকে হলে উঠতে দেয়া হবে না।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি বিভাগের আমিনুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পূর্বের একটা দাবি ছিল যারা ১৫ জুলাইয়ের সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের কাউকে হলে উঠানো হবে না, এবং এর বাইরেও যারা পূর্বে ছাত্রলীগের কর্মী ছিল যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করেছে তাদেরকে হলে উঠানো হবে না। সে দাবির বাস্তবায়নে আমরা বেমিফিট অব ডাউটে কয়েকজনকে উঠিয়েছি যাদের বিরুদ্ধে কারো কোন কমপ্লেন নেই। তবে তারা (ছাত্রলীগের কর্মী যাদেরকে উঠানো হয়েছে) যদি কোনভাবে এর বাইরে গিয়ে হামলার সাথে যুক্ত, নির্যাতনের সাথে যুক্ত লাউকে হলে উঠাতে চেষ্টা করে তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে না। অর্থাৎ আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের পুনর্বাসন করতে দিব না।
তিনি আরও বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা তো মানবিক (এসময় তার কথার সাথে সায় দিয়ে সবাই ঠিক বলে উঠে)। আমরা কোন অমানবিকতার পরিচয় দিব না। তাই যারা কোন ধরনের অন্যায়ের সাথে জড়িত ছিল না তাদেরকে হলে উঠতে দিয়েছি। কিন্তু যারা মাদক কারবারি করত, মাদক সেবন করতো এমন কাউকে হলে উঠতে দেয়া হবে না। যদি হলে কোন ধরনের মাদক কার্যক্রম চলে তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করবে।
পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান বলেন, আমরা ছাত্রলীগের পুনর্বাসন তো চাই ই না, পাশাপাশি আমাদের হলে কোন লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে দেয়া হবে না। সেটা যে দল ই হোক না কেন, তারা হলের ভিতর কোন কার্যক্রম করতে পারবে না। অরা এই বিষয়ে প্রশাসনের সদিচ্ছা দেখতে চাই। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে কঠোর। মাদকাসক্ত কাউকে, মাদকের ব্যাবসার সাথে জড়িত কাউকে হলে উঠানো হবে না। আমরা এই বিষয়ে সকলেই একমত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে হলে ছাত্রলীগের যেসব কর্মীদের উঠানো হয়েছে তাদের মধ্য থেকে কেউ অন্য একজন কর্মীর সাথে হলের সামনে খোশগল্প করতে দেখা যায়। পরে সেই বিষয় নাম য়ে ম্যাসেঞ্জার চ্যাটবক্সে আলাপ চলতে থাকলে পুনর্বাসন এর বিষয়টি উঠে আসে। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ স্বরুপ জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। এর মাধ্যমে তাদেরকে হুশিয়ারি দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদকের কাছে তথ্য এসেছে হলে যেসব ছাত্রলীগের কর্মীদেরকে উঠানো হয়েছে এদের মধ্যে একজন হামলার সাথে জড়িত ছিল। অনুসন্ধান করে ক্রসচেকের মাধ্যমে খুব শীগ্রই সেই হামলাকারীর নাম প্রকাশ করা হবে।