
মো নাজিউল্লাহ ভূইয়া
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের বাজার যেন নিয়ন্ত্রণহীন। সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে দিনের পর দিন অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি হলেও কার্যকর নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের।
ভোক্তা, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অভিযোগের পর অবশেষে শনিবার (৩ জানুয়ারি) কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রমাণ পাওয়ায় ৫টি মামলায় মোট ৩২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের তুলনা করলে দেখা যায়, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার প্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। কোথাও কোথাও “গ্যাস নেই” অজুহাতে বিক্রি বন্ধ রেখে পরে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়।
স্থানীয় গৃহিণী সাহিদা আক্তার বলেন,
“লাইনে গ্যাস না থাকায় এলপিজির ওপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই, আবার পরিচিত কেউ গেলে বেশি দামে ঠিকই দেয়।”
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে আতঙ্ক ছড়ান এবং একসঙ্গে দাম বাড়িয়ে দেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিন্ডিকেট এতদিন কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল?
এক স্থানীয় দোকানি স্বীকার করেন,
“আমরা নিজেরা দাম ঠিক করি না। উপরের লাইন থেকেই বেশি দামে আসে। না নিলে গ্যাসই দেয় না।”
অভিযানকালে বাজার ঘুরে অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় মোবাইল কোর্টে অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই জরিমানা কি ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে যথেষ্ট?
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন,
“অবৈধভাবে মজুদকৃত এলপিজি গ্যাস কিংবা সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে তথ্য পাওয়া মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া এবং আফতাব আহমেদের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
ভোক্তারা বলছেন, একদিনের মোবাইল কোর্ট নয়—এলপিজি গ্যাসের বাজারে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত অভিযান ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।