
মো. নাজিউল্লাহ ভূইয়া
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪জনসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০ জন।
শুক্রবার(২৭ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুরের ধলেশ্বরী টোল প্লাজা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,❝বরিশাল গামী ব্যাপারী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোল প্লাজায় অপেক্ষারত একটি প্রাইভেটকার, একটি মাইক্রোবাসও মোটর সাইকেলকে পিছন থেকে ধাক্কা দিলে এতে পথচারীসহ ৫জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো অন্তত ১০ জন। তাদেরকে সেনাবাহিনী,পুলি, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সাহায্যে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ স্থানীয় ভিবিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে নেবার পর আরও একজন মারা যায়।নিহতরা হচ্ছেন আমেনা বেগম(৪৫),ইমি(২২),নিহা(১০),আয়াজ(২),
রেশমা আক্তার (২৫), ছেলে আব্দুলাহ(৭)। আহত কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হচ্ছেন প্রাইভেট কারের মালিক নুরে আলম (৩০),ড্রাইভার হাবিবুর রহমান (৩২), নূর আলম এর স্ত্রী অনামিকা (২৫),নাজিয়া (১৭) ও মোটরসাইকেল আরোহী মোঃ সুমন (৩০)।
আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক । এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত ও আহতদের আত্মিয় -স্বজনেরা হাসপাতালে ছুটে যান। তাদের চিৎকার আর আহাজারিতে হাসপাতাল গুলোতে এক করুন দৃশ্যের সৃস্টি হয়।সেখানকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে তাদের আহাজারিতে।
প্রাইভেট কারের মালিক আহত নূর আলমের বড় ভাই নূর আহমেদ জানান, সকালে তার ছোট ভাই নুর আলম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার জুরাইন এলাকা থেকে গোপালগঞ্জে তাদের এক আত্মীয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে যাচ্ছিলেন। এসময় তারা ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার জন্য অপেক্ষারত ছিলেন । তখন বরিশালগামী বেপারী পরিবহনের একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাদেরকে সজোরে পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুছে যায়। এই ঘটনায় তার ভাইয়ের শাশুড়ি আমেনা বেগম, ভাইয়ের শালিকা ইমি, নিহা, ভাইয়ের ছেলে আয়াজ নিহত হয়।আহত হয় তার ভাইয়ের স্ত্রী অনামিকা, তার ভাই নুর আলম, ড্রাইভার হাবিবুর রহমান এবং তাদের এক আত্মীয় নাজিয়া। আহত মোটরসাইকেল আরোহী সুমনের ভাই মালেক জানান, তার ভাই সুমন স্ত্রী রেশমা আক্তার ও ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে তার শালিকার বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ফরিদপুর যাচ্ছিলেন। সুমন টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিল। এ সময় পিছন দিক থেকে আসা বেপারী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস তাদের সজরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ছেলে আব্দুল্লাহ নিহত হয়। আহত অবস্থায় রেশমা আক্তার ও সুমনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রেশমা আক্তার সেখানে মারা যান।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানান, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে ছিল, যা নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রধান কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাসারা হাইওয়ে থানার সাব ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান জানান, বেপারী পরিবহনের ঘাটক বাসটি আটক করা গেলেও বাসের ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।