
আব্দুল করিম
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখলেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। নতুনের আহ্বানে পুরোনো সূর্যকে বিদায় জানাতে উত্তাল সমুদ্র সৈকতে সমবেত হয় হাজারো মানুষ। উপভোগ করেন বছরের শেষ সূর্যাস্ত। বিকেলে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, সমুদ্রে সৈকতে স্নান ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন পর্যটকরা। কেউ টায়ার টিউবে গা ভাসাচ্ছেন, কেউ জেটস্কি নিয়ে সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, কেউবা আবার ঘোড়া ও বিচ বাইকে উঠে সৈকতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
২০২৩ সাল কক্সবাজারের জন্য প্রাপ্তির বছর, স্বপ্ন পূরনের বছর। এই বছরে পর্যটন শহরে এসছে স্বপ্নের ট্রেন। মাতারবাড়িতে নির্মিত হয়েছে গভীর সমুদ্র বন্দর। মহেশখালী কালারমারছড়ায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল খালাসের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। সাবমেরিন লাইনের মাধ্যমে কুতুবদিয়ায় সরবরাহ করা হয়েছে বিদ্যুৎ। এছাড়া এ বছরের কক্সবাজারে জেলায় উদ্ধোধন হয়েছে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রাপ্তির বছরের শেষ সূর্যকে তবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে কোনো আয়োজন ছাড়াই বিদায় জানিয়েছেন জেলাবাসী।
আজ রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে নেই তেমন কোলাহল। রক্তিম লাল আভা ছড়িয়ে সূর্য তার বিদায়ের ক্ষণ গুনছে। আর সাগরের গর্জন অন্যরকম মুগ্ধতা ছড়িয়ে ধীরে ধীরে সূর্যকে টানছে নিজের দিকে। যখন ৫টা ২০ মিনিট তখন সূর্য হারিয়ে গেলো। অস্ত গেল ২০২৩-এর শেষ সূর্য।
জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবার থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপনে দৃশ্যমান আয়োজন নেই। এরপরও কক্সবাজারে উল্লেখ করার মতো পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে। সেন্টমার্টিনেও অবস্থান করছেন অনেক পর্যটক। বছরের শেষ সূর্যাস্থ দেখতে সৈকতে হাজির হন পর্যটকের পাশাপাশি প্রকৃতি সচেতন স্থানীয় নারী-পুরুষ।
কনকনে শীতল বাতাস থাকলেও বছরের শেষ দিনে সূর্য লাল আভা ছড়িয়ে বিদায় নিয়েছে। সোমবারের সূর্যোদয়ের মধ্যদিয়ে পথচলা শুরু হবে ২০২৪ সালের। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনায় খোলা স্থানে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনের সব ধরনের আয়োজন বন্ধ। নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশন নেতা ও হোয়াইট অর্কিড হোটেলে জিএম রিয়াদ ইফতেখার বলেন, মৌসুমের এ সময়টা পর্যটকরা বেরাতে কক্সবাজারকেই প্রাধান্যে রাখে। কক্সবাজার আসা পর্যটকদের ৭০-৭৫ শতাংশ এক থেকে দুদিনের ট্যুরে সেন্টমার্টিন যান। এবারও এই ধারা অব্যহত রয়েছে। ইংরেজি নতুন বছর ২০২৪-কে স্বাগত জানাতে পর্যটকের মিলন মেলা বসেছে। প্রায় হোটেলে ৮০-৮৫ শতাংশ বুকিং হয়েছে।
হোটেল-মোটেল জোনের মোহাম্মদীয়া গেস্ট হাউসের ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ের মতো এবারও বছরের শেষ দিন সারা দেশ থেকে লোকজন কক্সবাজার সৈকতে এসেছে। অনুষ্ঠান না থাকলেও বিগত সময়ের মতো থার্টিফার্স্ট উদযাপনে সৈকতে অসংখ্য পর্যটক এবং স্থানীয়রাও উপস্থিত হয়েছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, থার্টিফাস্ট উদযাপনে সৈকতে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। সবাই মিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থার্টিফাস্টের অনুষ্ঠান করা গেলে পর্যটনের বিভিন্ন সেক্টরে কয়েকশ কোটি টাকা বাণিজ্য হতো।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার সৈকত কিংবা পর্যটন স্পটের কোথাও আতশবাজি, ফটকা ফোটানোসহ গান-বাজনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা ব্যান্ডসংগীতের আয়োজন করা নিষেধ। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় বালুচরে দাঁড়িয়ে সমুদ্র উপভোগে বাঁধা নেই। পর্যটন এলাকার নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানান, অনুষ্ঠান না থাকলেও পর্যটন এলাকার সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।