নিজস্ব সংবাদদাতা
দীর্ঘ ০৬ বছর পর পূবাইলের ইফতি হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ ঘটনার সাথে জড়িত ০২ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই গাজীপুর জেলা। গত ২৭ আগস্ট ২০২৩ তারিখ আসামি ১। মৃদুল হাসান(৩০) এবং ২। ফরিদ আহম্মেদ (৩২) দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়।
ভিকটিম ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ @ ইফতি (২০), পিতা- মৃত শামসুদ্দিন আহমেদ,সাংঃ হারবাইদ পূর্বপাড়া, থানা- পূবাইল, জেলা- গাজীপুর তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট এর ১ম বর্ষে লেখাপড়া করতো। ভিকটিম হারবাইদ পূর্বপাড়া সাকিনে নিজেদের নির্মাণাধীন বিল্ডিং দেখাশুনা করতো। গত ১৯/১০/২০১৮ তারিখ রাত অনুমান ১০.১০ ঘটিকায় ভিকটিম ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ @ ইফতি উক্ত নিমার্ণাধীন বিল্ডিংয়ের অভ্যন্তরে মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীরা ভিকটিম ইফতিকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দ্বারা কোপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে চলে যায়। সকাল অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার দিকে ভিকটিম ইফতির মা ভিকটিমের ফোন বন্ধ পেয়ে পাশের বাসার সেলিনা খাতুন(৪০),স্বামী- মোঃ জয়নাল আবেদীন, সাং-হারবাইদ পূর্বপাড়াকে ফোন দিয়ে তার ছেলে ইফতিকে ডেকে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে সেলিনা খাতুন নিমার্ণাধীন বিল্ডিং এর ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, ভিকটিম ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ @ ইফতির গলা কাটা মৃত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে। সেলিনা খাতুন সাথে সাথে থানা পুলিশ ও বাদীসহ ভিকটিমের মাকে বিষয়টি জানায়। ভিকটিমের মামা মোঃ মিজানুর রহমানসহ আত্মীয় স্বজন সাথে সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ @ ইফতির লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে। এ সংক্রান্তে ভিকটিমের মামা মোঃ মিজানুর রহমান(৬০),পিতা- মৃত খবির উদ্দিন, সাং-সরকারবাড়ী রোড আজমপুর,থানা-দক্ষিনখান, ডিএমপি ঢাকা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পূবাইল থানার মামলা নং-১১, তারিখ-২০/১০/২০১৮খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড আইনে মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করেন। রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার নির্দেশ পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
অ্যাডিশনাল আইজিপি পিবিআই জনাব বনজ কুমার মজুমদার. বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, জনাব মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান, বিপিএম এর সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) জনাব মোঃ জামাল উদ্দিন নেতৃত্বে পিবিআই গাজীপুরের চৌকস টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামি ১। মৃদুল হাসান(৩০), পিতা-মৃত আলাউদ্দিন, মাতা-মনোয়ারা বেগম, সাং- উত্তর আদিপুত, পোঃ মেলান্দহ, থানা- মেলান্দহ জেলা-জামালপুর এ/পি-খিলক্ষেত পূর্ব নামাপাড়া,থানা-খিলক্ষেত,ডিএমপি ঢাকাকে ইং ২৭/০৮/২০২৩ তারিখ বিকাল ০৫.১০ ঘটিকায় ঢাকা মহানগর খিলক্ষেত থানা এলাকা হতে এবং আসামি ২। ফরিদ আহম্মেদ (৩২), পিতা-আবুল কাশেম,মাতা-মমতাজ বেগম,সাং-শিলমুন মন্ডলবাড়ী (আব্দুল রাজ্জাক জামে মসজিদ এর সামনে),থানা-টঙ্গী পূর্ব,জিএমপি গাজীপুরকে ২৭/০৮/২০২৩ তারিখ সন্ধ্যা ০৭.০০ ঘটিকায় টঙ্গী পূর্ব থানাধীন টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামিগন মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামিগনসহ তাদের সহযোগি আসামিরা ঘটনাস্থলে নিমার্ণাধীন বিল্ডিংয়ে এসে ভিকটিমের মামা মোঃ মিজানুর রহমান এর নিকট চাঁদা দাবী করে। ভিকটিমের মামা উক্ত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন প্রকারে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল হতে চলে যায়। অত্র মামলার ভিকটিম ইফতি তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট পড়া শুনার কারণে ভিকটিমের মামা ভিকটিমকে বিল্ডিং নিমার্ণের কাজ দেখা শুনার দায়িত্ব দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামিসহ সহযোগি আসামিগন ঘটনার দিন রাতে হারবাইদ এলাকায় একটি নির্জনস্থানে বসে মাদক সেবন করার পর ঘটনাস্থলে এসে নিমার্ণাধীন বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করে ভিকটিমকে মশারি খাটিয়ে শুয়ে থাকতে দেখে তারা ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে যায়। এ বিষয়ে পিবিআই এর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান, বিপিএম বলেন এটি একটি হত্যা মামলা। থানা পুলিশ কর্তৃক তদন্তধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করলে ঘটনার সহিত সকল তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। মূলত আসামিগন মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। প্রকৃত পক্ষে নিমার্ণাধীন বিল্ডিংয়ের চাঁদা না দেওয়ার কারণে তারা ভিকটিমকে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৮/০৮/২০২৩ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে ভিকটিম ইফতিকে হত্যা কান্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়ে অন্যান্য আসামিসহ এই হত্যাকান্ডের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

