
রিয়া মনি
পঞ্চগড়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) মোঃ আসিফ আলী জিভালের বিরুদ্ধে গাড়ি কেনার জন্য ২৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, মারধর ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী দেওয়ান স্বীকৃতি রহমান ওরফে চৈতি।
এ অভিযোগে চৈতি ঢাকার সিএমএম আদালত এবং যশোরের একটি আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। তার দাবি, ঘটনার পর স্বামী তার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার অপব্যবহার করে হেনস্তার হুমকি দিতে থাকেন।
চৈতির অভিযোগ অনুযায়ী, যশোর শহরের পুরনো কসবা বিবি রোড এলাকার বাসিন্দা দেওয়ান স্বীকৃতি রহমান ওরফে চৈতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। অপরদিকে, খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মোঃ আসিফ আলী জিভালও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্কে ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে উভয়েরই পূর্বে বিবাহ হয়েছিল এবং তারা তালাকপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় এই বিয়ে করেন। চৈতির প্রথম পক্ষের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যা উভয়ের অ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
চৈতির অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের প্রায় এক মাস পর, ১৯ এপ্রিল জিভাল একটি গাড়ি কেনার জন্য তার কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা জানালে জিভাল তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। পরে চৈতি যশোরে বাবার বাড়িতে ফিরে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।
পরবর্তীতে ১৫ নভেম্বর চৈতি বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে জিভালও সেখানে উপস্থিত হন এবং আবারও ২৫ লাখ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কথা জানালে সেদিনও জিভাল তাকে মারধর করেন, যার ফলে তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়। এরপর তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।
পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি যশোর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
চৈতির ভাষ্যে, ‘আমাদের দুজনের আগের বিয়ের কথা দুজনেই জানতাম। জেনেশুনেই আমরা বিয়ে করি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই জিভাল পল্লবী নামের এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। আমি সেই সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় তিনি যৌতুকের অজুহাতে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। এই ঘটনার পর ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা (নং ১৬২৫/২৪) এবং যশোর আদালতে আরেকটি মামলা (৩১/১০৩) দায়ের করি।’
এছাড়াও, গত ২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে ‘যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পরকীয়ায় আসক্তি’ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন চৈতি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তাহমিদ আকাশ জানান, ভুক্তভোগী যশোর কোতোয়ালি থানাতেও অভিযোগ দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়। তবে এখন পর্যন্ত আসামিকে পুলিশ আটক করতে পারেনি এবং তিনবার সময় নিয়েও চার্জশিট আদালতে জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার মোঃ আসিফ আলী জিভাল বলেন, ‘পরিস্থিতির কারণে আমাকে তাকে বিয়ে করতে হয়েছে। তবে কখনো একসঙ্গে সংসার করিনি বা একসাথে থাকিনি।’
তার দাবি, মামলার এজাহারে যেদিনের মারধরের কথা বলা হয়েছে, ওই সময় তিনি অন্য বিভাগের ট্রেনিংয়ে ছিলেন। তাকে হেনস্তা করতেই এই মামলা করা হয়েছে। যেহেতু মামলা হয়েছে, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি করবেন। পাশাপাশি জানান, বর্তমানে চৈতি তার স্ত্রী নন, তবে বিচ্ছেদের সময় বা কারণ জানাতে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।