
সদস্যদের গ্রুপ ছবি সংগ্রহীত

রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদে নতুন উদয় হয়েছে একটি ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং যাদের প্রত্যেকটি সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ,বোমা হামলা, সহ বিভিন্ন মামলা, বর্তমান পল্লবীর বাউনিয়াবাধবাসী প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকে এই কান কাটা গ্রুপের ভয়ে।


প্রথমে তারা গ্রুপের নাম দিয়েছিল ভইরা দে, পরবর্তীতে তারা নাম পরিবর্তন করে নাম রাখে কান কাটা গ্রুপ, যার উপরে তারা হামলা চালায় প্রথমেই তার কান কেটে দেয়, এরপরের শরীরের অন্যান্য অংশে ভয়ঙ্কর ভাবে কোপাতে থাকে।

বিগত ০২/০৫/২০২৪ তারিখে পল্লবী থানার অন্তর্গত ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী রিপনের উপর আতর্কিত হামলা চালায় কিশোর গ্যাং বাহিনী, নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করে রিপন সহ তার সাথে থাকা আরও একাধিক ব্যক্তিকে, এর মধ্যে রিপন ও রনির কুপিয়ে কান কেটে ফেলা হয়, এরপরও বেপরোভাবে রিপনকে কোপাতে থাকে, হামলায় রিপনের মাথা ঘাড় পা শরীরের সমস্ত স্থানে কোপাতে থাকে নির্মমভাবে, এরপর তারা উল্লাস করতে করতে ওই স্থান ত্যাগ করে, সিসিটিভির ফুটে যায় ভয়ংকর সেই দৃশ্য ধরা পড়ে। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কুর্মিটোলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করেন, মুমূর্ষ অবস্থায় আহতদের ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্য তো চিকিৎসক তাদেরকে জরুরিভাবে চিকিৎসা করান, গণমাধ্যমকে কে চিকিৎসক জানান যদি আপনারা আরেকটু দেরি করতেন তাহলে হয়তো আহতদের বাঁচানো যেত না।
আহত রিপন ভোরের বাংলা নিউজ কে বলেন আমি আমার কয়েক বন্ধু ও কয়েকজন বড় ভাই মিলে বৃষ্টির মধ্যে আমার বাড়ির সামনে বসে ছিলাম, হঠাৎ ২০ ২৫ দিনের একটি দল এসে আমার উপর আতর্কিত হামলা চালায়, এই হামলার নেতৃত্ব দেয় তুহিন, শহিদুল, ডাসা শরিফ, ইয়াবা ব্যবসায়ী হানিফ, শাকিল, ইলিয়াস সহ ২০/২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে, আমাকে যখন মারছিল আমি প্রচুর চিৎকার করছিলাম কিন্তু প্রাণের ভয়ে কেউই এগিয়ে আসেনি আমাকে বাঁচাতে।
ভোরের বাংলা নিউজের অনুসন্ধানে এই গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব তথ্য, এরা যাদের কাছে চাঁদা দাবি করে যদি কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করে তাহলে তার ওপর নেমে আসে নির্মম পাশবিক নির্যাতন, অধিকাংশ ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিতে চায় না ভয়ে, কারণ গ্রুপের প্রতিটা সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে মিরপুর সহ রাজধানীর বিভিন্ন মামলায় হত্যা চাঁদাবাজি মাদক ধর্ষণসহ একাধিক মামলা। এবং সব সদস্যরাই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে গেলেই এর কিছুদিন পরেই জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে। রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধ পাঁচটি ব্লক নিয়ে গঠিত, এ ব্লক বি ব্লক সি ব্লক ডি ব্লক ই ব্লক, গ্রুপের অধিকাংশ সদস্যই বাউনিয়াবাদের, কিছু ভাষানটেক, মাটিকাটা সহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গার সদস্য রয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বলেন এদেরকে যদি এখনই জমানো না যায় তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং এই বাউনিয়াবাদবাসীর ঘুম আরো হারাম করে দিবে। এবং অনেক ভুক্তভোগী আছে যারা আইনের আশ্রয় নেয় না বা প্রকাশ্য এদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলে না নিজের জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে। এই গ্রুপের অধিকাংশ সদস্যই মাদকাসক্ত প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে তারা মাদক বিক্রয় ও সেবনের সাথে জড়িত।
আহত রিপন বাদী হয়ে বিগত ০৩/০৫/২০২৪ তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন পল্লবী থানায়, মামলা দায়ের এর পর ২০-২৫ জনদের একটি দল প্রকাশ্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাসার আশেপাশে মহড়া দিয়ে যায়, রিপন জানাই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
পল্লবী থানার সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল আজাদ ভোরের বাংলা নিউজকে জানান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এই গ্রুপের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি ডাঁসা শরিফ, ইয়াবা হানিফ ও ইলিয়াস নামের তিন যুবককে গ্রেফতার করে পল্লবী থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে, এবং আগামীকাল তাদেরকে কোর্টে উপস্থাপন করা হবে, বাকি অন্যান্য আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে এবং খুব শীঘ্রই বাকি আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
ভোরের বাংলা নিউজকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব জানান পল্লবীতে কোন সন্ত্রাসকে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না, তারা যেকোনো দলের বা সংগঠনের ব্যক্তি হোক না কেন, স্থানীয় জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ এই ধরনের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের তথ্য দিয়ে আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করুন।