
মাসুদুল ইসলাম মাসুদ
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
নির্বাচন কমিশন কতৃক ঘোষিত উপজেলা নির্বাচনে হাওয়া বইতে শুরু করেছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতে হাওয়া এসে গেল উপজেলার। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে কাজ করেছেন দলীয় ব্যানারের সকল উপজেলা নেতৃবৃন্দ। আশা যদি দলীয় এম পি পেয়ে যায় তাহলে হেভিওয়েট প্রার্থী গুলো নৌকা পাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে থাকবে।
সেই হিসেবে সবাই দলীয় এম পি কে প্রচুর সময়ও দিয়ে আসছেন।
নৌকা প্রতিক দৌঁড়ে এগিয়ে ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মুহুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য সৈয়দ বাকের, সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম, চেয়ারম্যান শাহীন, পাশাপাশি নাম আসে জেলা পরিষদ সদস্য আকতার মাহমুদ পারভেজ , যুবনেতা খাইরুল বশর, জেবুন নাহার মুক্তা সহ অনেকের নাম।
নির্বাচন কতৃক ও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে যখন দলীয় প্রতীক নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয় তখন হাওয়া অন্য দিকে বইতে শুরু করে।
হঠাৎ করে আলোচনায় চলে আসেন এম পি সাহেবের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত সাবেক উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমান উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বখতিয়ার সাইদ ইরান।
অপেক্ষাকৃত তরুণ হিসেবে যুব সমাজের মডেল হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। ভদ্র নম্র ও বিনয়ী হিসেবে তার আলাদা একটা সুনাম রয়েছে পথে প্রান্তরে। বিগত রাজনৈতিক জীবনে তার ক্যারিয়রে কোনো কলঙ্ক নেই। ক্লিন ইমেজ হিসেবে ওপরের মহলেও আলাদা একটা সুনাম রয়েছে তার। সব কিছু মিলিয়ে ভোটের মাঠের অবস্থান অন্যদের চেয়ে আলাদা বলে মনে করেন জনগণ।
অন্য দিলে ৮০/৯০ দশকের রাজনীতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করা সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মুহুরীও রয়েছে হিসাব কিতাবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদে শক্ত একটা ভূমিকা ছিল তার। আছে নীরব সমর্থকও।
অন্য দিকে সৈয়দ বাকেরের রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী। কর্মী বান্ধব হিসেবে রয়েছে আলাদা একটা পরিচিতি। সবকিছু চাপিয়ে সবাই তাকিয়ে আছে হাইকমান্ডের বিবেচনার দিকে।
এছাড়াও আরো প্রার্থী তালিকায় আছেন সাদ আনোয়ার সাদী,আবু তালেব বুলবুল, ছালামত উল্লাহ চৌধুরী শাহীন, এডভোকেট উত্তম কুমার মহাজন সহ আরো অনেকে।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে শোনা যাচ্ছে মহিলা পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রাজিয়া মাসুদ, শারমিন নূপুর সহ আরো কয়েকজন। তবে মূল তালিকা হতে সটকে পরলে অনেকেই ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে পারে বলে শুনা যাচ্ছে।
দু একটা গোপন বৈঠকও চলেছে বলে এলাকা সূত্রে জানা যায়। তবে ফলাফল অজানা।
বুলেটের গতিতে এগিয়ে চলা চট্টগ্রামে সরাসরি ভোটে জিতে আসা প্রথম নারী এম পি খাদিজাতুল আনোয়ার সনির রয়েছে কিছু হিসাব নিকাশ। কিছু অংক। তার সিদ্ধান্তেও অনেক কিছু উলোটপালোট হতে পারে বলে সবাই আশাংকা করছে।মোটামুটি পুরো উপজেলায় চলছে সবার মাঝে চাপাগুন্জন। কে হবে আগামীর উপজেলা চেয়ার এর মালিক।
এরমধ্যেই রয়েছে মার্চের ৯ তারিখ দক্ষিণ ফটিকছড়ির ২ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সেটার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
সংসদ সদস্য নিজের এলাকা হিসেবে রয়েছে বাড়তি চাপ। প্রার্থী হচ্ছেন তার চাচা শিল্পপতি রৌশন। প্রার্থী হচ্ছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত বর্তমান চেয়ারম্যান শফিউল আজম। রয়েছে রাশেদ কোম্পানি। ওপরদিকে আছে খিরাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নৌকা প্রতিক না থাকায় সেখানেইও একাধিক প্রার্থীর নাম আসতেছে। তার মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান সৌরভ,আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ সহ অনেকে। মোটামুটি ফটিকছড়ি উপজেলা চলছে নির্বাচনী হাওয়া। এখন সবার চোখ উপজেলা চেয়ারম্যান নিয়ে।