
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
আমার মেয়ে ডাক্তার হবে অথবা ইন্জিনিয়ার হবে সে মেধাবি ছিলো, আমার মেয়ে ডালিম পছন্দ করতো এ জন্য আমি বাড়িতে ডালিম গাছ রোপন করেছি যাতে করে বাড়ি এসে ডালিম খেতে পারে আমার মা হুমাইরা। এই অল্প বয়সে চোখের সামনে এভাবে আমাকে ছেরে চলে যাবে আমার মেয়ে কখনো চিন্তাও করিনি। কথা গুলো ঘরের এককোণে শুয়ে শুয়ে বলছিলেন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক ও উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় নিহত মেহেনাজ আফরিন হুমাইরার বাবা দেলোয়ার হোসেন।
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নের কেরানীপাড়া এলাকার মঙ্গলবার সকালে এসে এ চিত্র দেখা যায়।
দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন,আমি সকালে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে ক্লাস করাচ্ছিলাম পাশের ভবনে। যখন বিমান বিধ্বস্ত হয় তখন বিকট শব্দ হয় তখনি বের হয়ে দেখি আগুন জ্বলছে। তখনি আমার স্ত্রীর ফোন বেজে উঠে। তখন বুঝতে পারি আমার মেয়ে আটকা পড়েছে ওই ভবনে। ওই মুহুর্তে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
নিহত মেহেরাজ আফরিন হুমাইরার মা সুমি আক্তার বলেন, আমি মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসার জন্য স্কুলের মাঠে প্রবেশ করতেই দেখি একটি বিমান হঠাৎ করে ভবনের ভিতরে ডুকে পড়ে। তখনি আমি চিৎকার করলে আমাকে স্কুলের অন্য শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটকিয়ে রাখে। আমি বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘিরে বেড়াই এরপর শুনতে পাই স্কুলে হুমাইরার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আমার মেয়ে অনেক লক্ষি ছিলো, আমার কথার বাহিরে কিছু করতো না। আমার হুমাইরার জন্য দোয়া করবেন।
হুমাইরার মামা ফিরোজ আহমেদ বলেন,আমাকে মামা বলে ডাকার মতো এখন আর কেউ রইলো না। আমার বোনের একমাত্র সন্তান ছিলো হুমাইরা। তাদের একটি মাত্র সন্তানটিও শেষ হয়ে গেলো।
স্থানীয় শামসুল আলম বলেন,এই রকম মর্মান্তিক ঘটনা বাংলাদেশ কখনো প্রত্যাশা করেনি। হঠাৎ করে কতগুলো বাচ্চা শেষ হয়ে গেলো মুহুর্তে। সরকারের কাছে দাবী জানাই এই বিমান বাহিনীর ট্রেনিং গুলো নিরাপদ জায়গায় যেন করা হয়।
সখিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন,আমরা সখিপুর উপজেলার পক্ষ থেকে নিহতর পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করছি।