
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ : যত্রতত্র পড়ে আছে কাঠ বাঁশসহ নির্মাণ সামগ্রি। এতে দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ কেউ এসব ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রির খোচায় আহতও হচ্ছেন। কেউ স্টল নির্মাণ করছেন, কেউ ডেকোরেশন করছেন। আবার কেউ এখনও মালপত্র গোচ্ছাছেন। কার্টুন, পলিথিন, পরিত্যাক্ত কাগজ ফেলে রাখছেন। গোটা মেলা জুড়েই এমন অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। এগুলো মেলায় আগত দর্শনার্থীদের ভোগান্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
২৯তম আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলার আসর বসেছে রূপগঞ্জের পূর্র্বাচলে। একেতো ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীত, তার উপর স্টল নির্মানে ধীর গতি। সব মিলিয়ে মেলায় দর্শনার্থী অনেক কম। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সির্মাণ সামগ্রী। চলছে ডেকোরেশনের কাজ। বুধবার ১ জানুয়ারি ১১ টা ২৮ মিনিটে মাসব্যাপী এ মেলার ২৯তম আসরের উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস। আগের মতো মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। মেলায় প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে বড়দের জন্য ৫০ টাকা, শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
কাঠ মিস্ত্রি সুমন সরকার বলেন, দোকানের মালিক বলছে কাজ করতেছি। আগে পরে তো আমি জানি না। আরেক জন স্টল মালিক বলেন, মেলা হবে কি হবে না, কবে হবে তা নিয়েই তো সংশয় ছিল। তাই স্টল নির্মানে দেরি হচ্ছে।
নাফিসা ইসলাম নামে একজন দর্শনার্থী বলেন, জীবনের প্রথম বাণিজ্য মেলায় আসলাম। দর্শনার্থী অনেক কম। মনে হয় শীত কমলে ধীরে ধীরে দর্শনার্থী বাড়বে। মুনসিফ নামে একজন দর্শনার্থী বলেন, শীত ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে আসলাম ভালই লাগল। তবে লোকজন কম। দোকানিরা বলেন, বেচাবিক্রি একেবারেই নেই। তারা আরো বলেন, সময় বাড়ার সাথে সাথে হয়তো ক্রেতা দর্শনার্থী বৃদ্ধি পাবে।
ইপিবি জানিয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ মেলার যৌথ আয়োজক। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশি ৭ দেশের ১১ প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া।
মেলায় এসব দেশের বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারি ওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ছাড়ে উবার সার্ভিস। কুড়িল- বিশ্বরোড থেকে ৩৫ টাকা ও ভুলতা- গাউছিয়া থেকে ২০ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
মেলার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সচিবালয়। দর্শনার্থীদের সব প্রকার তথ্য প্রদানের জন্য রয়েছে একটি তথ্যকেন্দ্র। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকছে ডাচ্-বাংলা ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথ। এছাড়া মেলায় থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সার্ভিস বুথ। মেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সচিব বিবেক সরকার বলেন, সুষ্ট সুন্দরভাবে মেলা আযোজন করেছি। নিয়মিত পানি ছিটাচ্ছি যাতে ধুলাবালি না উড়ে। অনলাইনে স্টল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে, আগেই বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল। কিছু ব্যবসায়ি দেরীতে স্টল নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তবে খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
আইনশৃঙ্খলার ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত আলী বলেন, পর্যাপ্ত পরিমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্মরত রয়েছে। পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেলায় সক্রিয় রয়েছে।#####