
মো. নাজিউল্লাহ ভূইয়া
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা শেষে কেরানীগঞ্জের বহুল আলোচিত আটি বাজার ব্রিজটি অবশেষে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শত শত এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য ব্রিজটি উন্মুক্ত করা হয়।
বিশেষ করে শাক্তা ও তারানগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের জন্য এটি বড় স্বস্তির বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি অবহেলায় পড়ে থাকায় আশপাশের ইউনিয়নগুলোর মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।
সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী খালেদ শাহেদ বলেন, “ব্রিজটির কাজ অনেক দিন বন্ধ ছিল। দ্রুত সময়ে সংস্কার সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করেছি। খুব শিগগির যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে এটি সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।”
আটি বাজার ব্রিজ সংস্কার ও চালুর দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সাবেক এমপি আমান উল্লাহ আমান একাধিকবার ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ গত ১১ জুলাই তিনি ব্রিজের কাজের অগ্রগতি দেখে বলেছিলেন, “আটি এলাকার মানুষের দাবি পূরণে আমি নিজেই সওজের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। তারা আশ্বস্ত করেছেন, এই মাসের মধ্যেই পায়ে হেঁটে চলাচল শুরু হবে।”
এর আগে ২১ অক্টোবর ২০২৪ সালে এক জনসভায় আমান উল্লাহ আমান বলেছিলেন, “কেরানীগঞ্জবাসীর ভোটে আমি চারবার এমপি হয়েছি। আমার সময়ে হাসনাবাদ, কদমতলী, ওয়াশপুর, আলীপুরে সেতু নির্মিত হয়েছে। আটি বাজার ও হযরতপুর ব্রিজের অসমাপ্ত কাজও ইনশাআল্লাহ শেষ হবে।”
দীর্ঘদিন ব্রিজটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আটি বাজার, ঘাটারচর, শাক্তা, কলাতিয়া, শুভাঢ্যা ও আশপাশের এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে ছিলেন। বিকল্প হিসেবে কাঠের সাঁকো ব্যবহার করা হলেও তা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই সাঁকো ভেঙে পড়ে যেতেন পথচারীরা।
ঘাটারচরের বাসিন্দা রানা হামিদ বলেন, “এই ব্রিজ চালু হওয়ায় নতুন প্রাণ পেয়েছি। এখন ছেলে-মেয়েরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে, আমরা সহজে মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারব।”
আটি বাজারের ব্যবসায়ী মো. সজিব বলেন, “আজকের পর থেকে মানুষের ভোগান্তি অনেকটা কমে যাবে। তবে দ্রুত যানবাহন চলাচলের জন্য ব্রিজ খুলে দেওয়া জরুরি, এতে বাণিজ্যিক গতিশীলতা ফিরবে।”
আজকের আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হাজী তারেক ইমাম বাবুল, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি রাসেল আহমেদ মতিন, সহসভাপতি হাজী তুহিন আহমেদ শিখা, শাক্তা ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মো. ফারুক এবং ব্যবসায়ী হাজী ফয়সাল ইমাম, হাজী মিজাম খান, সোহেল, লোকমান হোসেন, মনতাজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয়রা ব্রিজটি যাতে ভবিষ্যতে আবার অবহেলার শিকার না হয়, সেজন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।