
খুবি প্রতিনিধি, ফিরোজ হাসান
বাংলাদেশে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক ভিন্নধর্মী উৎসবের আমেজ। যার মাধ্যমে আমরা একে অপরের মধ্যে এক আলাদা সহানুভূতি সৃষ্টি হয়।
হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দৈনন্দিন ক্লাস, ক্লাসটেস্ট, এ্যাসাইনমেন্ট এবং প্রেজেন্টেশন হচ্ছে । যা এখন দাঁড়িয়েছে অন্যান্য মাসের মতোও এক নিত্যদিনের রুটিন। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতেও দেখা মেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ালেখার দৃশ্য।
রমজান মাসের পাশাপাশি ক্লাস করা শিক্ষার্থীদের কষ্টের কারণ হলেও শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে দিনগুলো কাটাচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধুদের মধ্যেও হাসি, আনন্দ এবং দৈনন্দিন পাঠক্রম একে অপরের মধ্যে শেয়ার করছে। তাছাড়া একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একে অপরের সাহায্যপূর্ণ আচরণ দেখা যায়।
অন্যদিকে, খুবির প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তাদের একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা করছে সকাল নয়টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত। যার মধ্যে দুপুর ১.৩০ থেকে ২.০০ টা পর্যন্ত নারী পুরুষ উভয়ের জন্য সেন্টার মসজিদে সালাত আদায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।
দুপুর গড়িয়ে যখন সূর্যাস্ত হতে থাকলে শিক্ষার্থীরা পদচারণা করতে থাকে খুবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে, শহিদ মিনারে এবং সেন্টার মসজিদে ইফতারে জন্য । সেখানে দেখা মেলে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের সিনিয়র- জুনিয়র, ক্লাসমেট , জেলা সমিতি, এবং ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ইফতারের আয়োজন করতে যা একে অপরের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতাপূর্ণ এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দী হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
খুবির শিক্ষা ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাইসা ইসলাম বলেন,” সাধারণত রমজান মাসে দেশের সকল স্কুল, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলো ছুটি থাকলেও প্রায় মধ্য রমজান পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করে এই মাসে। কিন্তু সকল ক্লান্তি, ব্যস্ততার পাশাপাশি খুবির শিক্ষার্থীরা যেন সানন্দেই বরণ করে নিচ্ছে এই পবিত্র মাসকে।”
ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ বলেন, ” রমজান মাসে ক্লান্তির পাশাপাশি আমারা ক্লাস করলেও বন্ধুদের সাথে যখন আড্ডা দেয় তখন সময় মুহূর্তেই কেটে যায়। এবং অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে যে একাডেমি কার্যক্রম কমিয়ে এনেছে তার জন্য প্রশাসকে ধন্যবাদ জানায়।”