
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও (থানা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) ডা. আবুল হাসনাত পিন্টুর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, অনিয়ম-দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলাসহ নানান অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডা. হাসনাত কর্মপরিবেশ নষ্ট করেছেন। নিয়মিত অফিস না করা, ইচ্ছামতো সময় কাটানো, বহিরাগতদের হাসপাতালে প্রবেশ করানো এবং অকারণে দাপট দেখানোর কারণে অনেকে কাজের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।
এমনকি ২০১২ সালে তিনি নড়াইলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (সাচিব) প্যানেলে অংশ নিয়েছিলেন বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও ডা. হাসনাতের বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। নারী রোগীদের প্রতি অশোভন আচরণ, কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, এমনকি স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, একাধিক ঘটনায় টাকা দিয়ে বিষয়গুলো মীমাংসা করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ বাঁকা গ্রামের সোনালী নামের এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়ার পর স্থানীয়রা তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং পরে বিয়ে দিতে বাধ্য করে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ ভয়াবহভাবে নষ্ট হয়েছে। ভর্তিকৃত রোগীদের নিজেদের বাড়ি থেকে বালিশ, কাঁথা, চাদর আনতে হয়। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য এবং বহিরাগতদের উপস্থিতিতে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
একজন রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, “আগে হাসপাতালে ভালো সেবা পাওয়া যেত। এখন ডাক্তার পাওয়া যায় না, ডা. হাসনাত ওষুধ কোম্পানির লোকদের সঙ্গে ব্যস্ত থাকেন। রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা পান না।”
২০২৪-২৫ অর্থবছরে হাসপাতালের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে ডা. হাসনাতের বিরুদ্ধে। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নিয়মিত উপহার নেওয়া এবং তাদের ওষুধ প্রেসক্রিপশনে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও অফিস সময়েই বাহিরে রোগী দেখা এবং অতীতে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করার তথ্যও পাওয়া গেছে।
ডা. আবুল হাসনাত পিন্টুর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ধলাইতলা গ্রামে। তার বাবা শেখ আবু জামাল বুলু কোটাকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে নাশকতা মামলার আসামি।
এ বিষয়ে ডাঃ আবুল হাসনাত বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পন্ন মিথ্যা। আমি এর আগেও এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করে গেছি এ ধরনের কোন কিছু হয়নি।
এ বিষয়ে নড়াইলের সিভিল সার্জন (সিএস) আব্দুর রশিদ বলেন, নারী ঘটিত বিষয়গুলি আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। অন্যান্য যে অভিযোগ রয়েছে অভিযোগের লিখিত পেলে আমরা তদন্ত করে দেখব।