
মুনতাসিম সরকার সৌরভ
ঘন কুয়াশায় ঢাকা সকাল। সূর্যের দেখা মেলে দেরিতে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় টানা কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা নেমে এসেছে এক অঙ্কে। প্রবল শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ।
রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতা প্রতিদিনই নতুন মাত্রা যোগ করছে। ভোরের দিকে ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে কুয়াশা মিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে। দিনমজুর, ভ্যানচালক ও কৃষিশ্রমিকদের অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হচ্ছেন।
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, কাজ না করলে সংসার চলে না। কিন্তু এই শীতে শরীর ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে রাত কাটাতে হচ্ছে কষ্টের মধ্যে।
শীতের প্রভাব পড়েছে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের ওপরও। জেলা হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। কুয়াশার কারণে অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। অভিভাবকেরা সন্তানদের ঠান্ডা ও অসুস্থতার ভয়ে স্কুলে পাঠাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন।
কৃষিখাতেও শীতের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। টানা কুয়াশার কারণে আলু ও শীতকালীন সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি।
দিন শেষে কুয়াশায় ঢাকা রাত নেমে আসে। শহরের আলো জ্বলে উঠলেও খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের শীতের কাঁপুনি থামে না। এই শীত আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—সবাই সমানভাবে ঋতুর সুরক্ষা পায় না।
প্রবল শীত কেবল একটি প্রাকৃতিক বাস্তবতা নয়; এটি সমাজের বৈষম্যও স্পষ্ট করে তোলে। এই সময় সবচেয়ে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও মানবিক সহানুভূতি।