
তালতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি
জিয়া স্মৃতি টি-২০ ক্রিকেট টুনামেন্ট ব্যর্থ ও বানচালের জন্য ‘জয় বাংলা’স্লোগান রাতের আঁধারে বরগুনার তালতলী সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে লিখে রেখে যায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে দেয়ালের ওপর লেখা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করে মুছে দিয়ে ও এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র এবং সহকারী শিক্ষক রুবেলের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলসহ বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শনিবার(২৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঐ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানগুলো মুছে দেওয়া হয় ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্টের স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পরে সম্প্রতি ‘জয় বাংলা’কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেই স্থগিত হওয়া স্লোগান কে উপজেলার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক প্রান্তের মঞ্চ ও বিদ্যালয়ের আশপাশের দেয়ালে সকালে জয় বাংলা স্লোগান লেখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের জানায়। মুহূর্তের মধ্যে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা বিএনপিসহ ছাত্রজনতা স্কুল মাঠে জড়ো হয় ও প্রতিবাদ করেন ছাত্রদলসহ বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা । পরে স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করে জয় বাংলা স্লোগান মুছে দেওয়া হয় ।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়,গত ২৪ ডিসেম্বর তালতলীতে জমকালো আয়োজনে জিয়া স্মৃতি টি-২০ ক্রিকেট টুনামেন্ট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্রিকেট টুনামেন্টকে বানচাল ও ব্যর্থ করার জন্য ওই বিদ্যালয়ের আওয়ামীলীগ দোসর হিসেবে পরিচিত প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র সরকার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক রুবেল দেয়ালে ও ব্যনারসহ বিভিনন্ন স্থানে এই উসকানিমূলক লেখা ও স্লোগান লিখেছেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকায় তাদের অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদল,যুবদল নেতাকর্মীরা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ও জিয়া টি২০ ক্রিকেট টুনামেন্টের আহবায়ক মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, এই প্রথম এ উপজেলায় জিয়া টি২০ ক্রিকেট টুনামেন্টের আয়োজন করি। এই খেলার সৌন্দর্য নষ্ট ও বানচাল করার জন্য ও যাতে সফল করতে না পরি তার জন্য রাতের আঁধারে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক স্কুলের বিভিন্ন দেয়ালে এসব উসকানিমূলক লেখা ও স্লোগান লিখেছে। এই ঘটনার সাথে জতিড় আওয়ামীগের দোসর প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র ও সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক রুবেলের অপসারণ চাই।
সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক রুবেল বলেন,বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় আমি গত ১৯ ডিসেম্বর পাশের উপজেলা কলাপাড়ায় শশুর বাড়িতে বেড়াতে এসছি। কে বা কাহারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমি কিছুই জানি না।
এ বিষয় প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র সরকার বলেন, বিষয়টি অবহিত হলে লেখাটি মুছে ফেলার ব্যবস্থা করেছি। আমি এ ঘটনার বিষয়ে দোষি না। পরবর্তিতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য ব্যবস্থা নিতেছি। সিসি ক্যামেরাটি নষ্ট রয়েছে যার কারণে কে বা করা ঘটিয়েছে তা বের করতে পানিনি। তিনি আরও বলেন, নাইটগার্ড তিনি রাত ১০টায় এসেছেন স্কুলে। এ ঘটনা তার আগে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা বলেন, জয় বাংলা লেখার বিষয়টি আমি অবহিত হয়ে দোষী ব্যাক্তিদের খুজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানা ও নৌবাহিনীকে বলেছি। শিক্ষকদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বলবো।