
নিজস্ব প্রতিবেদক
কেরানীগঞ্জে ১৩৭ জন হজযাত্রীর কাছ থেকে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন এজেন্সি মালিক মাওলানা ফয়জুর রহমান (৪৫)। হজের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রতারিত হজযাত্রীরা।
ফয়জুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পাটুলী এলাকায়। বাবার নাম আব্দুল কুদ্দুস। ফয়জুর রহমান জিনজিরা গোলজারবাগ মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলায় ‘নজরুল এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলার্স’ নামে হজ এজেন্সি খুলে ১০ বছর ধরে লোকজনকে হজে পাঠাতেন। পাশাপাশি স্থানীয় রহমতপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
এ ঘটনায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাকির হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ফয়জুর রহমানের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাৎ করার অপরাধে একটি মামলা করেছেন।
মামলার তদন্ত করছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খালিদুর রহমান। সোমবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হজযাত্রীদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা প্রতারক ফয়জুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছি। পাসপোর্টের তথ্যানুযায়ী তিনি বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে বাহারাইনে আছেন নাকি সেখান থেকে অন্য কোথাও চলে গেছেন সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা তার লোকেশন ট্রাক করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেব।
মামলার বাদী জাকির হোসেন বলেন, মামলা করার আগে এক সপ্তাহ ধরে তার মোবাইল ও অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মামলা করি। উনি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় দেড়শর মতো হজযাত্রী বিপাকে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ফয়জুর যে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন, এক সময় ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি হজ এজেন্সি খুলে লোকজনকে হজে পাঠাতেন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমি পরিবারের ৪ জনকে নিয়ে ফয়জুরের এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাই। সে আমাদের জিনজিরা এলাকায় অফিস খুলে শত শত মানুষকে হজে পাঠিয়েছেন। কিন্তু ২০২৩ সালে কিছু লোককে হজে না পাঠিয়ে টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করে। একপর্যায়ে বলে তাদের ২০২৪ সালের হজে পাঠাবেন। পুরাতন হজযাত্রীসহ ২০২৪ সালের হজযাত্রীদের কাছ থেকে সে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ঠিক কতো টাকা সে হাতিয়ে নিয়েছে তার সঠিক হিসাব আমাদের কাছে নেই। তারপরও ভুক্তভোগীদের একটা অংশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তাতেই ফয়জুরের ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, এবার আমিসহ আত্মীয়স্বজন ৬ জন তাকে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি হজে যাওয়ার জন্য।
আরেক ভুক্তভোগী মো. শাহআলম জানান, তিনি ১৭ জনের হজের জন্য ফয়জুরকে ৮৫ লাখ টাকা দিয়েছেন।
কামরুল ইসলাম নামে একজন জানান, তিনি ১৮ জনের হজের জন্য ৫০ লাখ টাকা ফয়জুরকে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রফিকুল হক জানান, তিনি ১৬ জনের হজের জন্য ফয়জুরকে ২৮ লাখ টাকা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মাসুদুর রহমান জানান, তিনি ১২ জনের হজের জন্য প্রথম পর্যায়ে ফয়জুরকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। আরও টাকা তাকে দেওয়ার কথা, এর আগেই সে পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, কতগুলো মানুষকে সে হজ করা থেকে বঞ্চিত করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।